19 C
Kolkata
Saturday, December 3, 2022

কামতাপুরী ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য পুরুস্কৃত হলেন বজলে রহমান

Must read

ওয়েব নিউজ ডেস্ক : রাজ্য সরকার কামতাপুরী ভাষা ও সংস্কৃতি সাহিত্য চর্চা বিষয়ে এবছর থেকে চালু করেছে ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা নামাঙ্কিত পুরস্কার।

আর এই বিভাগে পুরুস্কার এলো উত্তরবঙ্গের ঝুলিতে । মাইকেল মধুসূদন পুরস্কারের পর ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা নামাঙ্কিত পুরুস্কার পেলেন জলপাইগুড়ির ভাষা একাডেমীর চেয়ারম্যান তথা কোচবিহারের অধিবাসী বজলে রহমান।

কামতা পুরী ভাষা ও সাহিত্যে এই প্রথম বার পুরুস্কার ঘোষিত হয়েছে। যার ফলে মর্যাদা পেলো কামতাপুরী ভাষা ও সাহিত্য।

কলকাতার নজরুল তীর্থে আগামী ২৬শে মে সরকারের পক্ষ থেকে বজলে রহমানের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেবে। বজলে রহমান এখন থাকেন কোচবিহারের ১৯নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ায়। কোচবিহার জেলার শিতলখুচি গ্রামের ১৯৫৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্ম।

রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব শান্তনু বসু চিঠি দিয়ে বজলে রহমানকে লিখেছেন ‘উত্তরবঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে আপনি একজন অগ্রণী ব্যক্তি। উত্তরবঙ্গের ভাষা গান ও পালাগানের প্রচারে ও প্রসারে আপনার অবদান অনস্বীকার্য। বাংলার লোকসংস্কৃতি চর্চায় আপনার সামগ্রিক অবদানের জন্য রাজ্য সরকার আপনাকে ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা পুরস্কার প্রদানে আগ্রহী’।

কবিতা উপন্যাসের পাশাপাশি বেশ কিছু পাঠ্য পুস্তক রচনা করেছেন এই বিশিষ্ট সাহিত্যিক বজলে রহমান। তাঁর তত্বাবধানে এ পর্য্যন্ত প্রাথমিক স্তরে পড়ানোর জন্য কামতপুরী ভাষায় ৩৩টি পাঠ্য পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ থেকে।

কামতাপুরী ভাষা আকাদেমী তাঁর পরিচালনায় কামতপুরী সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে ৩৮টি বই প্রকাশ করেছে। এছাড়াও পালাগানের বিলুপ্ত প্রায় ৭ টি আলবাম ও ভাওইয়া গানের ১২টি আলবাম তৈরি হয়েছে বজলে রহমানের হাত ধরেই।

কামতপুরী ভাষা ও ব্যাকরণ ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ হলো কামতাপুরী ভাষায় কাব্যগ্রন্থ ‘আদুরী’ ও ‘ভুলকিমারা ভালোবাসা’ এবং উপন্যাস ‘পঙ্খী’।

পুরুস্কার প্রাপ্তির খবর শুনে আপ্লুত হয়ে বজলে রহমান বলেন ‘ নিজের কাজের সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছি। কামতাপুরী ভাষায় পড়াশোনা আগে কেউ ভাবতেই পারতেন না। অথচ এটা আমাদের মৌলিক অধিকার। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ যে, তিনি এই ভাষায় পাঠ্য পুস্তক রচনায় তাগিদ জুগিয়েছেন।’
তাঁর বক্তব্য ‘পালাগান ভাওয়াইয়া গান সংরক্ষণে আমার প্রয়াস অবশ্যই ছিল। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে টিম ওয়ার্ক সাফল্য এনে দিয়েছে বলে মনে করি’।

কামতাপুরী ভাষার পাশাপাশি তিনি বাংলা ভাষায় বাংলাভাষী ইসলাম ধর্মালম্বীদের জন্য বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গের মুসলিম সমাজ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও মুসলিম সমাজ, সাচার কমিটির রিপোর্ট ও উত্তরবঙ্গের মুসলিম সমাজ, মন্ডল কমিটির রিপোর্ট ইত্যাদি।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article